গঠনতন্ত্র

তিতাস- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ

প্রতিষ্ঠাকালঃ নভেম্বর ২০২১ খ্রিঃ (কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গা:)

প্রস্তাবনা

শিক্ষা–সহযোগিতা–সংস্কৃতি–ভ্রাতৃত্বের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে পারস্পরিক পরিচিতি, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে "তিতাস—ঢাবিতে একখণ্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া" নামক একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করার প্রয়াস শুরু করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ২০২১ সালে তিতাস—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, ভ্রাতৃত্বমূলক, অলাভজনক, কল্যাণকর ও সেবাধর্মী সংগঠন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে সকলের মতামতের ভিত্তিতে তিতাসকে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সকল ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখার লক্ষ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিতাসই প্রথম গণতান্ত্রিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এই নির্বাচনের মাধ্যমে।

তিতাসের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করার নিমিত্তে তিতাস—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সকল সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে এই গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছাত্র–ছাত্রীদের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন হিসেবে এই গঠনতন্ত্রের প্রাধান্য অক্ষুণ্ণ রাখা এবং এর সমর্থন, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করা আমাদের সকলের পবিত্র कर्तव्य।

অনুচ্ছেদ-১ নামকরণ

এই সংগঠনের নাম-

  • বাংলা: তিতাস- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ।
  • ENGLISH: Titas-Dhaka University Students' Welfare Association of Brahmanbaria.

অনুচ্ছেদ ২ কার্য্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক এই সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

অনুচ্ছেদ-৩ মনোগ্রাম

সংগঠনের স্বতন্ত্র একটি মনোগ্রাম বা লোগো আছে এবং থাকবে।

অনুচ্ছেদ-৪ সংগঠনের ধরণ

তিতাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, অরাজনৈতিক, ভ্রাতৃত্বমূলক, কল্যাণকর, অলাভজনক ও সহযোগিতামূলক সংগঠন।

অনুচ্ছেদ-৫ সংগঠনের লক্ষ্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা ও কল্যাণ সাধনই এই সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য।

অনুচ্ছেদ-৬ সদস্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বর্তমান সকল শিক্ষার্থী তিতাসের সম্মানিত সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।

অনুচ্ছেদ-৭ কার্যনির্বাহী কমিটি

  1. তিতাস- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সকল কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য ১ (এক) বছর মেয়াদী একটি (পূর্ণাঙ্গ) কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হবে। অর্থাৎ প্রতি বছর এই সংগঠনের কমিটি নবায়ন করা বাধ্যতামূলক।
  2. এই সংগঠন জানুয়ারি-ডিসেম্বর এই হিসেবে বছর গণনা করবে।
  3. কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্য তাদের যাবতীয় কাজের জন্য তিতাস পরিবারের সকল সদস্যদের নিকট দায়বদ্ধ থাকবে।

অনুচ্ছেদ-৮ কার্যনির্বাহী কমিটির কাঠামো

কার্যনির্বাহী কমিটিতে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক সহ প্রয়োজনীয় ও যুগোপযোগী বিভিন্ন পদ সংযুক্ত থাকবে, যা সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারণ করবেন।

পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি গঠন

নতুন কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করতে হবে।

অনুচ্ছেদ-৯ কার্যনির্বাহী কমিটির কার্যাবলী

৯.১: নির্বাহী ও সাধারণ সভা

  1. প্রতি মাসে ০১টি করে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সংগঠনের কল্যাণ কেন্দ্রিক উদ্যোগ অথবা যেকোন প্রয়োজনে নির্বাহী সভা আয়োজন করা যাবে।

৯.২: আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ

  1. সংগঠন সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় অবশ্যই প্রথমে নির্বাহী সভা অথবা সাধারণ সভায় আলোচিত হতে হবে।
  2. সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের মতামত, আলোচনা, সমালোচনার অধিকারকে সমুন্নত রাখা।
  3. আলোচনা শেষে উপস্থিত সদস্যদের মতামত অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
  4. সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত সংগঠনের সকলের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

অনুচ্ছেদ-১০ নির্বাহী পদ রহিতকরণ প্রক্রিয়া

  1. পরপর ৩টি সভায় অনুপস্থিত থাকলে, দেশের প্রচলিত আইনবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হলে, সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কোন কাজ করলে, সংগঠনের কার্যক্রমে কোনরূপ বাধা সৃষ্টি করলে, উক্ত সদস্যকে পরবর্তী নির্বাহী সভায় কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ অথবা শোকজ করা হবে।
  2. অভিযুক্ত সদস্য পরবর্তী নির্বাহী সভায় উপযুক্ত ব্যাখ্যা দানে ব্যর্থ হলে অথবা অনুপস্থিত থাকলে অথবা উক্ত বিষয়ে সদস্যের নির্লিপ্ত মনোভাব প্রমাণিত হলে উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে উক্ত সদস্যের সদস্যপদ বাতিলের বিষয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
  3. সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক অথবা উভয়ে সংগঠন বিরোধী কোন কার্যক্রমে লিপ্ত হলে, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে নির্লিপ্ত অথবা ব্যর্থ হলে, পরপর তিনটি নির্বাহী সভায় অনুপস্থিত থাকলে, নির্বাহী সদস্যদের কমপক্ষে পাঁচ জনের লিখিত স্বাক্ষরে অভিযোগ আকারে সেটি নির্বাহী সভায় উত্থাপিত হবে।
  4. সভাপতির অবর্তমানে পরবর্তী সহ-সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের অবর্তমানে পরবর্তী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব হিসেবে নির্বাহী সভা আহ্বান এবং পরিচালনা করবেন।
  5. নির্বাহী সভায় সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ও নির্বাহী কমিটির মোট সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ স্বাক্ষরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ বহাল অথবা শূন্য হিসেবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

অনুচ্ছেদ–১১ আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা

  1. সংগঠনের নামে স্বনামধন্য কোন ব্যাংকে একটি সঞ্চয়ী হিসাব (Saving Account) পরিচালিত হবে।
  2. সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদক—এই তিনজনের যৌথ স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংগঠনের সঞ্চয়ী হিসাব পরিচালিত হবে।
  3. সংগঠনের সকল আয়-বেয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্ধারিত হিসাব সংরক্ষণ বই রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আয়-বেয়ের জন্য পৃথক রসিদ ও ভাউচার সংরক্ষণ করা হবে।
  4. "রসিদ ছাড়া কোন আয় নয় এবং ভাউচার/রসিদ ছাড়া কোন ব্যয় নয়" —এই নীতিই সংগঠনের আর্থিক কার্যক্রমে কঠোরভাবে অনুসৃত হবে।
  5. সংগঠনের প্রতিটি উদ্যোগ গ্রহণের পূর্বে তার সম্ভাব্য কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট অবশ্যই নির্বাহী সভায় আলোচনা ও অনুমোদনের মাধ্যমে গৃহীত হবে।
  6. সংগঠনের প্রতিটি আয়োজন বা কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার পর একটি 'মূল্যায়ন সভা' অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আয়োজনের সার্বিক ভালো-মন্দ দিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ আয়-বেয়ের হিসাব উপস্থাপন ও প্রকাশ করা হবে।

অনুচ্ছেদ–১২ গঠনতন্ত্রের পরিমার্জন, পরিবর্ধন ও সংশোধন

  1. গঠনতন্ত্রের পরিমার্জন, পরিবর্ধন, সংশোধন অথবা কোন নতুন অনুচ্ছেদ সংযুক্তির প্রয়োজন দেখা দিলে নির্বাহী পরিষদের সকল সদস্যের উপস্থিতিতে একটি নির্বাহী সভা আহ্বান করা হবে।
  2. গঠনতন্ত্র সংক্রান্ত প্রস্তাবসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে উপস্থিত সদস্যদের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সংশোধনীসমূহ খসড়া আকারে লিপিবদ্ধ করা হবে।
  3. উক্ত খসড়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রয়োজনবোধে সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে চূড়ান্তভাবে পরিমার্জন, পরিবর্ধন ও সংশোধন করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন অনুচ্ছেদ সংযুক্ত করে তা লিপিবদ্ধ করবেন।

অনুচ্ছেদ ১৩ নির্বাচন

তিতাস- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ প্রতি এক বছর অন্তর সকল সদস্যের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করবে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার এক মাস পূর্বে নতুন কমিটি গঠন করার নিমিত্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করবে।

১৩.ক। নির্বাচন কমিশন ও এর কার্যাবলী

১৩.ক (১) নির্বাচন কমিশনের সদস্য

  1. সর্বশেষ দুইটি কমিটি (বর্তমান কমিটি সহ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকারবলে পরবর্তী কমিটির নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে থাকবেন।

১৩.ক (২) নির্বাচন কমিশনের কার্যাবলী

  1. ক। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে নির্বাচনে বিজয়ীকে পূর্বের সকল শর্ত মান্য করে দায়িত্ব হস্তান্তর পর্যন্ত দায়িত্বশীল থাকবেন।
  2. খ। প্রার্থীতা যাচাই-বাছাই এবং মার্কা/ব্যালট নির্ধারণ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
  3. গ। উল্লিখিত শর্তসাপেক্ষ যারা প্রার্থীর জন্য আবেদন করবেন, তাদের বিস্তারিত তথ্য যাচাই-বাছাই পরবর্তী নির্বাচন কমিশন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করবে। যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চতুর্থ বর্ষ এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের দেওয়া মতামত এবং তথ্য বিবেচনা করবে।
  4. ঘ। নির্বাচন পূর্ববর্তী প্রস্তুতিমূলক মিটিংয়ে সাধারণ সদস্য এবং প্রার্থীদের উপস্থিতিতে মার্কা/ব্যালট নির্ধারিত হবে।
  5. ঙ। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা এবং প্রার্থীর ক্ষেত্রে কোন প্রার্থী নিয়ম-নীতির অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। প্রয়োজনে প্রার্থীতা বাতিল করতে পারবে।
  6. চ। সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছভাবে নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্বাচন কেন্দ্রে প্রতিটি প্রার্থীর ভোটারদের মধ্যে থেকে একজন এজেন্ট নিয়োগ করতে হবে। এজেন্টরা নির্বাচন কমিশনের সাথে ভোটিং প্রক্রিয়ায় সমন্বয় করবে। এজেন্টরা ভোটারদের নিশ্চয়তা থেকে ভোট গণনা পর্যন্ত সেই প্রার্থীর প্রতিনিধিত্ব হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচন কমিশন এবং এজেন্টরা ভোট কেন্দ্রে প্রার্থীর বা অন্য কোনো প্রার্থীর অবস্থানে থাকতে পারবে না।
  7. ছ। নির্বাচন আয়োজকের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনে ভলান্টিয়ার নিয়োগ করতে পারবে। সেই ক্ষেত্রে প্রথম থেকে তৃতীয় বর্ষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে ভলান্টিয়ার নিয়োগ দেওয়া যাবে।

১৩.খ। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর যোগ্যতা

  1. ক। সভাপতি প্রার্থীর জন্য: মাস্টার্সের শিক্ষার্থী, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর জন্য: চতুর্থ বর্ষ শিক্ষার্থী হবেন। এই ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ভর্তির সেশনকে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রার্থী অবশ্যই অধ্যয়নরত হতে হবে।
  2. খ। নির্বাচিত সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক যদি কোন রাজনৈতিক দলের পদধারী হয়, সেই ক্ষেত্রে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তার দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিতে হবে। দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিতে আপত্তি থাকলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত প্রার্থী সেই পদে যোগ্য বিবেচিত হবে।
  3. গ। নৈতিকভাবে পদক্ষেপহীন ব্যক্তি (মাদক, অশ্লীল এবং নারী কলঙ্কায় যুক্ত) প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে না। (নির্বাচন কমিশন প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনা করবে)
  4. ঘ। সংগঠন কর্তৃক বাস্তবায়িত পূর্ববর্তী কার্যক্রমগুলোর স্বচ্ছতায় সম্পৃক্ততা থাকতে হবে।
  5. ঙ। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী পুনরায় প্রার্থী হতে পারবে না।

১৩.গ। প্রার্থীদের আচরণ এবং প্রচারণা

  1. প্রার্থীগণ নির্বাচনী প্রচারণা এবং ভোটের ক্ষেত্রে অন্য প্রার্থী এবং এলাকা ভিত্তিক কোন প্রকার জোট করতে পারবে না।
  2. প্রার্থীরা অনলাইন বা অফলাইন দুইভাবেই প্রচারণা চালাতে পারবে। প্রচারণার ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখতে হবে এবং ভোটারদের কোনভাবেই বিরক্ত করা যাবে না। প্রচারণার জন্য তিতাস ফেসবুক গ্রুপ ব্যবহার করা ব্যবহার করা যাবে। সেই ক্ষেত্রে, প্রার্থীদের জন্য মার্কা বা ব্যালট নম্বর নির্ধারিত হওয়ার দিন থেকে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে।
  3. ভোট প্রাপ্তির জন্য প্রার্থীর অসৎ কোন মাধ্যম (অর্থ লেনদেন এবং জোর প্রয়োগ) ব্যবহার করা হলে তার প্রার্থীতা বাতিল হবে।
  4. নির্বাচনের প্রচারণা বা নির্বাচন চলাকালীন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কোন অভিযোগ থাকলে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করতে হবে। কোনভাবেই অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু গ্রহণ করা হবে না।
  5. প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রতিটি প্রার্থীকে 'তিতাস' নীতি অনুযায়ী তার পরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে।

১৩.ঘ। ভোটিং প্রক্রিয়া

  1. নির্বাচনের আগে প্রকাশিত ফাইনাল ভোটার তালিকার সদস্যরাই শুধুমাত্র ভোট দিতে পারবে। সেই ক্ষেত্রে প্রতিটি ভোটার তার ভোটার নাম্বার নিশ্চিত হয়ে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হল। ভোটাররা প্রয়োজনে নির্বাচন কেন্দ্রে বাইরে অবস্থানরত ভলান্টিয়ারদের সাহায্য নিতে পারবে।
  2. একই পেপারে একাধিক ভোট বা অস্পষ্ট হলে ব্যালট পেপার বাতিল করা হবে।
  3. ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক।